চুলে কেস্টার ওয়েলের ব্যবহার

সুন্দর চুলের জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে তার পরিচর্চাও চাই। আর চুলের এই পরিচর্চা জন্য সব থেকে বেশি ব্যবহারের হয় তেল। এই তেলের সম্ভার বিপুল। এক একটা তেল এর কাজ এক এক রকম। এমনকি তেলগুলির ব্যবহারও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। চুলের বিভিন্ন রকমের তেলের মধ্যে একটি জনপ্রিয় তেল হল, কেস্টার ওয়েল। এই তেল সাধারণত ব্যবহার করা হয়, নতুন চুল গজানোর জন্য এবং চুল পড়া বন্ধ করতে। চুলে ফ্রিজি ভাব দূর করতেও এই তেলের জুড়ি মেলা ভার।

প্রতিদিন পার্লারে গিয়ে চুলের যত্ন নেওয়া যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি খরচসাপেক্ষ, তাই চাইতে বরং ঘরেই চুলের পরিচর্চা নেওয়াই ভালো। আজকেই এই পোস্টে কেস্টার ওয়েল ব্যবহার করে, চুলের বিভিন্ন সমস্যা সুরাহা কি করে করবেন  তার কয়েকটা উপায় রইল।


চুল পড়ার সমস্যা আজকের দিনে কোন নতুন সমস্যা নয়। এই চুল পড়া বন্ধ করতে যে আমাদের কত কি করতে হয়। তবে এর একটা সহজ উপায় হল চুলে কেস্টার ওয়েলের ব্যবহার। এখন একটা প্রশ্ন মনে আসতেই পারে যে, কেস্টার ওয়েল কি সত্যি কি চুল পড়া বন্ধ করে ? আবার অনেকেই এই তেলটির ব্যবহার করেছে, কিন্তু কোন ফল পান নি। আমি জানি এমনও অনেকে ভাবছেন তাই তো ? বিভিন্ন ম্যাগাজিনে পড়ে আমি যখন এই তেলটির ব্যবহার শুরু করি, প্রথম প্রথম আমারও এমনটাই মতো হতো। তবে এই ভুল ধরনটা আমার ৩ থেকে ৪ মাস পরেই দূর হয়ে যায়, যখন আমি কেস্টার ওয়েলের সঙ্গে আরও কিছু তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে আরম্ভ করি। আমি চুল পড়া বন্ধ করার জন্য যে ভাবে তেলটি ব্যবহার করেছি তার পদ্ধতিটি একটু দীর্ঘ তো বটেই এমন কি সময় সাপেক্ষ। তবে নিয়ম করে অনুসরণ করলে ফল পাবেনই। আমি যা করি, কেস্টার ওয়েলের সঙ্গে প্রয়োজন অলিভ ওয়েল (extra virgin olive oil), মিষ্টি বাদাম তেল (Sweet Almond Oil) এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুল। এক সঙ্গে ২০০ ml বোতলে তেলটি বানিয়ে রাখতে পারেন বা প্রতিবার ব্যবহারে আগেও বানিয়ে নিয়ে পারেন। ব্যবহারের আগে বানাতে হলে মাঝারি মাপের চুলের জন্য যে পরিমাণে তেল নিতে হবে তা হল, ৩ চামচ কেস্টার ওয়েলের সঙ্গে ২ চামচ অলিভ ওয়েল (extra virgin olive oil), ১ চামচ মিষ্টি বাদাম তেল (Sweet Almond Oil) এবং ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল।


কি ভাবে ব্যবহার করবেন -

চুলের গোঁড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে। এই হেয়ার ফলিকলকে যদি উদ্দীপিত করা যায় তাহলে কিন্তু নতুন চুল গজানো সম্ভব এবং চুল পড়াও বন্ধ হয়। প্রথম সহজ উপায় হল তেলটি গরম করে চুলের গোঁড়ায় লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট চুলে তেল রেখে চুলে হেয়ার স্টীম নিতে হবে। একটি বড় পাত্রে জল ফুটিয়ে নিন। ঐ গরম জলের পাত্রে একটি তোয়ালে ডুবিয়ে সেটি নিঙড়ে নিন। তারপর ঐ তোয়ালে টি মাথায় পেচিয়ে নিন। গরম তোয়ালে তিন বার ৫ মিনিট অন্তর অন্তর ব্যবহার করুন। এই পদ্ধতি হেয়ার ফলিকলকে  উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আপনার বাড়িতে যদি hair vibrating messenger বা hair vibrating চিরুনি থাকে তাহলে তার সাহায্যে ভাইব্রেশনের মাধ্যমে ফলিকল উদ্দীপিত করা যায়। আমি hair vibrating messenger এর সাহায্যে চুলে গরম তেল মাসাজ করে থাকি। এর সাহায্যে আপনি স্ক্যাল্পে চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং মাসাজ নিতে পারেন। যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে যাচ্ছে, তাতে বেশি মনোযোগ দিন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ভাইব্রেট করুন। শুরুতে দিন ২ বার ব্যবহার করুন। একবার গরম তেলের সাহায্যে, আরেকবার চুলে শ্যাম্পু করার পড়ে। আর সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন। হেয়ার স্টীম নিতে হবে ১৫ দিন অন্তর অন্তর। এই পদ্ধতি ৬ মাসের মতো ফলো করে দেখুন, চুল পড়া তো বন্ধ করবেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন চুলও গজাতে সাহায্য করবে।  
Read More :
চুলের রুটিন যত্ন
চুল নিয়ে চুল চেরা বিচার
নতুন চুল গজানোর ৫ টি টিপ্স
শীতকালে চুলের যত্ন
চুলের ৫ টি সমস্যার সমাধান - একটি হেয়ার প্যাক
চুলের বৃদ্ধির জন্য ন্যাচারাল প্রোটিন ট্রিটমেন্ট
চুলের সমস্যা নিয়ে ৭ টি ঘরোয়া টিপস
খুসকি দূর করবে লেবুর খোসা

 রুক্ষ, শুষ্ক চুলের জন্য কি করবেন, ২ চামচ কেস্টার ওয়েলের সঙ্গে ৩ চামচ নারিকেল তেল ও একটা ডিম মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। কেউ যদি ডিম ব্যবহার করতে না চান তাহলে পাকা কলা খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

তেল ব্যবহারের পাশাপাশি অবশ্যই DIET এর দিকে নজর দিতে হবে। আগামি পোস্টে চুলের জন্য কি ধরণের DIET ফলো করতে পারেন সেই নিয়ে কিছু ইনফো দেবো। আশা করি আজকের পোস্টটি কাজে আসবে। কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্টে সেকশনে করুন। 


টিপসগুলি ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ